কুয়াকাটায় সাগরে গোসল এখন বিপজ্জনক!
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
৩১-০৫-২০২৬ ০৬:২৮:৩৩ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
৩১-০৫-২০২৬ ০৬:২৮:৩৩ অপরাহ্ন
সংবাদচিত্র : ফোকাস বাংলা নিউজ
কুয়াকাটা সৈকতের শূন্য পয়েন্টের আশপাশে পড়ে আছে কংক্রিটের ধ্বংসস্তুপ। বিধ্বস্ত দেয়াল ও গাইডওয়াল। এসব কংক্রিটের ভাঙা অংশের জং ধরা রড পর্যন্ত বের হয়ে আছে। জোয়ারের সময় গোসলে নেমে পর্যটকরা প্রতিনিয়ত নিজের অজান্তেই রক্তাক্ত জখম হচ্ছেন। এমনকি দেড় বছর আগে এক পর্যটক কংক্রিটের আঘাতে অচেতন হয়ে ঘুর্ণিস্রোতের মধ্যে ডুবে মৃত্যু হয়। প্রতিনিয়ত পর্যটক আহতের ঘটনা ঘটলেও কুয়াকাটা সীবিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি এসব কংক্রিটের ভগ্নাংশ অপসারণে কোন উদ্যোগ নেয়নি। গোসলের জন্য এই স্পট বিপজ্জনক এমন নির্দেশনা সংবলিত সাইনবোর্ডও দেয়া হয়নি। এই ভগ্নাংশের পাশে ট্যুরিস্ট পুলিশ বক্স থাকলেও তারাও নির্বিকার থাকছেন। ফলে পর্যটকের জন্য কুয়াকাটা সৈকতে গোসল এখন বিপজ্জনক হয়ে গেছে।
২০০৭ সালের সিডর এবং ২০০৯ সালের আইলার ভয়াবহ তাণ্ডবে কুয়াকাটা সৈকতের বেলাভূমে নির্মিত এলজিইডির বাংলোটি বিধ্বস্ত হয়। ওই ভবনটি পরে অপসারণ করা হয়। কিন্তু বালুর নিচে থেকে গাইডওয়াল ও পিলারের ভগ্নাংশ এখনো রয়ে গেছে। পড়ে আছে সাগরে বিলীন হওয়া পাবলিক টয়লেটের ধ্বংসাবশেষ। বিভিন্ন ধরনের কংক্রিটের ভগ্নাংশ গাইডওয়াল বিধ্বস্ত অবস্থায় পড়ে আছে।
একইভাবে ট্যুরিজম পার্কের পূর্বদিকে জাতীয় উদ্যানের গেট, টাওয়ার, চেয়ার-বেঞ্চি, বাউন্ডারি দেয়াল সাগরে বিলীন হয়ে গেছে। ওই সমস্ত ছোট-বড় স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে। এসব ভাটার সময় দেখা গেলেও জোয়ারের সময় ডুবে থাকছে। ফলে পর্যটকরা গোসলে নেমে ঘটছে হতাহতের ঘটনা। আহত হওয়ার খবর এখন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
প্রতিদিন শূন্য পয়েন্টসহ আশপাশে হাজার হাজার পর্যটক জোয়ারের সময় গোসলে নামেন। উত্তাল ঢেউয়ের সময় এরা প্রাণোচ্ছ্বল হয়ে ওঠেন। কাটান স্মরণীয় করে রাখার আমুদে সময়। কিন্তু নিজের অজান্তেই কংক্রিটের ধ্বংসস্তুপের ওপর ছিটকে পড়ছে। ঘটছে দুর্ঘটনা। আনন্দঘন মুহুর্তটি বিষাদে পরিণত হয়।
পর্যটকরা জানান, কুয়াকাটার সৌন্দর্য মানুষকে বিমুগ্ধ করে, তাই বার বার ছুটে আসেন। কিন্তু কুয়াকাটা শূন্যপয়েন্টের দুইদিকে অন্তত দেড় শ’ মিটার এলাকায় জোয়ারের সময় পর্যটকরা গোসলে মগ্ন থাকেন। আমুদে সময় কাটান এখানে। জোয়ারের ঢেউয়ের সঙ্গে করেন মাতামাতি। কিন্তু কংক্রিটের অসংখ্য ভগ্নাংশ পড়ে আছে। যা ভয়াবহ দুর্ঘটনার শঙ্কা তৈরি করছে। জোয়ারের সময় ঢেউয়ে ঘুর্ণিস্রোতের সৃষ্টি হয়। সেখানে পর্যটকের আহত হয়ে ডুবে যাওয়ার প্রবল শঙ্কা রয়েছে।
দেড় বছর আগে ওই স্পটে ডুবে মিয়া সামাদ সিদ্দিকী ওরফে পারভেজ (১৭) নামের এক পর্যটকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তার বাড়ি মাগুরা জেলার হাজীপুর পশ্চিম বাড়িয়াল এলাকায়। পর্যটকের পরামর্শ, হয়তো ওই স্পটের কংক্রিটের ভগ্নাংশ অপসারণ করা হোক। নয়তো ওখানে গোসল করতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হোক।
কোরবানির দিনের বিকালে বেড়াতে আসা স্থানীয় দর্শনার্থী ফিরোজ হাওলাদার জানান, এই বিপজ্জনক ঘটনা এড়াতে এখনই পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। চায়ের দোকানি সোলায়মান জানান, প্রতিদিন এখান থেকে পর্যটক ওঠানামা করতে গিয়ে শ্যাওলা ধরা জিও টিউবে পা পিছলে অসংখ্য পর্যটকের পায়ের নখে ক্ষত হচ্ছে। কেটে যাচ্ছে। আর জোয়ারে তো ভয়াবহ সমস্যায় পড়তে হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিশেষ দৃষ্টি দেওয়ার দাবি সোলায়মানের।
কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক জানান, শূন্যপয়েন্টসহ ওইসব স্পটে জোয়ারের সময় গোসল করতে সতর্কীকরণ নোটিশ সংবলিত সাইনবোর্ড দেওয়া হবে।
বাংলা স্কুপ/প্রতিনিধি/এইচএইচ/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স